আন্তর্জাতিক ডেস্ক | THE DAILY PROTIKAR
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফরে যাচ্ছেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হবে তাঁর প্রথম নিউইয়র্ক সফর এবং প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ভাষণ প্রদান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের সফরে তিনি বৈশ্বিক শান্তি, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানবাধিকার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন।
বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্য
এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ, ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের কূটনৈতিক উপস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও কূটনৈতিক তৎপরতা
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে একাধিক সাইডলাইন বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং উন্নয়ন অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া নিউইয়র্কে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং প্রবাসীদের অবদান নিয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।
সংক্ষিপ্ত সফর
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর হবে সংক্ষিপ্ত। তিনি চার থেকে পাঁচ দিন নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন এবং ২৫ অথবা ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করবেন। সফরসঙ্গীর সংখ্যা ৩৫ জনের মধ্যে সীমিত রাখা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর
বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক শান্তি-নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখছেন কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।



No comments:
Post a Comment