নির্বাসনের দুই বছর পর দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার, ডিসেম্বরকে লক্ষ্য; রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৫ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাসনের প্রায় দুই বছর পর দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছেন। বুধবার (৫ আগস্ট) দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (FCC South Asia) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি জানান, “সময় এলে” তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন এবং তার লক্ষ্য চলতি বছরের ডিসেম্বর মাস।
![]() |
| শেখ হাসিনা |
অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, উপযুক্ত সময়ে দেশে ফিরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে চান। তবে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় জানান, বর্তমান বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের যোগাযোগ নেই।
মৃত্যুদণ্ডের রায়ের মধ্যেই ফেরার ঘোষণা
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ব্যাপক সহিংসতা ও দমন-পীড়নের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং হেলিকপ্টারযোগে ভারত চলে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।
পরবর্তীতে ঢাকায় তাঁর বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক কার্যক্রমে তিনি আদালতে হাজির হননি। বিচার শেষে মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যাকাণ্ডে উসকানি, হত্যার নির্দেশ প্রদান এবং সংঘটিত নৃশংসতা প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।
এই রায় কার্যকর হওয়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও দেশে ফেরার ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রত্যর্পণ ইস্যু ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশ সরকার এর আগে একাধিকবার শেখ হাসিনাকে ভারতের কাছ থেকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। তবে ভারত সরকার জানিয়েছে, বিষয়টি বিদ্যমান আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় পর্যালোচনাধীন রয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ভারত ইতোমধ্যে তাঁকে আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের জানান, এই বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে তাঁর প্রত্যাবর্তন বাস্তবে সম্ভব হবে কি না, তা নির্ভর করবে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া, প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
বর্তমানে তাঁর প্রত্যাবর্তনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। শেখ হাসিনা শুধু বলেছেন, “সময় এলে” তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন এবং তাঁর লক্ষ্য ডিসেম্বর মাসের মধ্যে দেশে ফেরা।



No comments:
Post a Comment