![]() |
| টিইটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূলহোতা অবশেষে গ্রেপ্তার: ছয় লাখ চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা |
ভারতের মহারাষ্ট্রে শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা (টিইটি) প্রশ্নপত্র ফাঁসের বহুল আলোচিত ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বিজেন্দ্র গুপ্তকে গ্রেপ্তার করেছে থানে সিটি পুলিশ। শনিবার (২৫ জুলাই) বিহার থেকে তাঁকে আটক করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভুয়া পরিচয়ে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় প্রায় ছয় লাখ চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। ঘটনার প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও রাজ্য সরকার এখনো পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করেনি। ফলে ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা দ্রুত পুনঃপরীক্ষার দাবি জানিয়ে আসছেন।
পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (জোন-২) পবন বানসদ জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিহারে অভিযান চালিয়ে বিজেন্দ্র গুপ্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে থানে এনে আদালতে হাজির করে পুলিশ হেফাজতের আবেদন করা হবে।
তদন্তে জানা গেছে, বিজেন্দ্র গুপ্ত একজন কোচিং সেন্টারের সাবেক শিক্ষক এবং এর আগেও একাধিক প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় তাঁর নাম জড়িয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজন পলাতককে খুঁজে বের করার অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তরা বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন এবং শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা পরীক্ষার মাত্র দুই দিন আগে প্রকাশ্যে আসে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে থানে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজনের কাছ থেকে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র উদ্ধার করে। এরপর বিহার থেকে রাজীব কুমার ও আকাশ কুমার এবং হরিয়ানা থেকে ধীরজ সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পুরো ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়।
তদন্তে উঠে আসে, উত্তর প্রদেশের আগ্রার একটি ছাপাখানা থেকে প্রশ্নপত্র পাচার করা হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ছাপাখানার দুই বর্তমান ও এক সাবেক কর্মী জুতার সোলের ভেতরে প্রশ্নপত্র লুকিয়ে বাইরে নিয়ে যান। পুলিশ দাবি করেছে, মাত্র আট হাজার টাকার বিনিময়ে বিজেন্দ্র গুপ্ত তাঁদের দিয়ে এই কাজ করান।
ঘটনার পর রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বহু বছর ধরে গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে মহারাষ্ট্র সরকার রাজ্যের বাইরে প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে এলেও এবার সেই ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। ফলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে ভাবছে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা বিভাগ।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ে স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দাদা ভুসের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করেছে বিভিন্ন শিক্ষার্থী সংগঠন। পুরো ঘটনায় দোষীদের দ্রুত বিচার এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।



No comments:
Post a Comment